Header ad

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এমন করেন কেন?

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। অস্কারজয়ী হলিউড তারকা তিনি। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূতও। তার মানে অভিনয় বা চিত্রজগতে থেকেও সব সময় দৃঢ়কণ্ঠে কথা বলেন মানবতার পক্ষে। অক্লান্ত পরিশ্রম করেন প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও। নারীর স্বাধীনতা বিষয়ে দ্য হলিউড রিপোর্টার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার বহু নারী। এমনকি অনেক উৎখাতেরও শিকার। যেটুকু করার স্বাধীনতা রয়েছে নারীদের, তার চেয়ে অনেক কমই ভোগ করে তারা। অথচ মেয়েদের মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে আমাদেরই সমাজ। এমনকি অনেক সময় নারীর মেধা, ক্ষমতা, প্রভাব ইত্যাদিকে অস্বীকারও করে কথিত আধুনিক এ সমাজ। তবুও আমাদের নারীর স্বাধীনতা, অধিকার, কর্তব্য ইত্যাদির জন্য কাজ করে যেতে হবে। তাহলে হয়তো আমাদের আওয়াজ ঠিকই এক সময় পৌঁছে যাবে কাক্সিক্ষত স্থানগুলোতে। সম্প্রতি জোলি বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে মানবতার কথাই বলে গেছেন। এমনকি বিশ্বের শিশুদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্যও নিঃস্বার্থ কাজ করে যাচ্ছেন অস্কারজয়ী এ তারকা।

তিনি বলেন, এ তথ্যটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, গোটা বিশ্বের কয়েক মিলিয়ন মানুষ কোনো-না-কোনোভাবে নির্যাতন ও ক্ষতির শিকার। আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই সততার সাথে। আমি মনে করি, বিচার ও সাম্য সবার অধিকার। আমাদের সবার বিশ্বাস রাখা উচিত, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলেই তার পাশে অপর কেউ দাঁড়াবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত কম্বোডিয়ার ওপর লারা ক্রফট; টম্ব রেইডার (২০০১) ছবি নির্মাণের সময় মানবিক সমস্যাগুলো তিনি তীক্ষ্ণতার সাথে বুঝতে পারেন। এর পরই সারা বিশ্বে মানবিক বিপর্যয়ের বিশাল ধারণা পেয়ে যান তিনি। এরপর বাড়ি ফিরে জোলি ইউএনএইচসিআরের সাথে যোগাযোগ করেন আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর সংবাদ সংগ্রহের ব্যাপারে। মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে এমন অঞ্চল সম্পর্কে অধিকতর তথ্য সংগ্রহের জন্য সারা বিশ্বের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে ১৮ দিনের মিশন নেন। পরবর্তীকালে যা দেখেন, তার শোকগাথা বর্ণনা দেন। ইউএনএইচসিআরের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জোলি পাকিস্তানে আশ্রয় নেয়া আফগান শরণার্থীদের জন্য এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার দান করেন। সংস্থাটি এ পর্যন্ত বেসরকারি পর্যায়ে যে সাহায্য পেয়েছে, তার মধ্যে জোলির অনুদানই সবচেয়ে বড়। মানবকুলের বিপদের সময় তিনি সারা বিশ্ব চষে বেড়ান এবং মানব উন্নয়নে সব ব্যয় নিজস্ব তহবিল থেকে মেটান। এ কারণে ২৭ আগস্ট ২০০১-এ জেনেভায় সংস্থাটি সদরদফতরে তাকে ইউএনএইচসিআরের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর নামে ভূষিত করে। পরের দশকে অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুত ব্যক্তিদের শরণার্থী শিবিরের প্রায় ৪০টি মিশনে অংশ নেন, যে মিশনে ছিল ৩০টি দেশ।

বিশ্বভ্রমণের সব ঘটনা তিনি মাইট্রাভেলস নামক বইতে সংরক্ষণ করেন। ওই সময় বিয়ন্ড বর্ডারস নামে মানবীয় একট নাটক মুক্তি পায়। জোলি সিদ্ধান্ত নেন, মিডিয়া যেসব বিষয় আলোকপাত করেনি, সেসব ক্ষেত্রে ভ্রমণ করবেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্ষেত্রগুলোতে ভ্রমণ করে খ্যাতি অর্জন করেন। যেমন সুদানে দারফুর যুদ্ধের সময় দারফুর অঞ্চল, দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধকালে সিরিয়া-ইরাক সীমান্ত পরিদর্শন করেন। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনী ও অন্যান্য বহুজাতিক বাহিনীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। কাবুলে আফগান যুদ্ধের সময় যুদ্ধাহতদের দেখতে যান। ভ্রমণ, সাহায্য, লোকবল নিয়োগ প্রভৃতি ব্যাপারে প্রশিক্ষণও আছে তার। এসব ব্যাপারে ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার করেন।

তিনি স্পেশাল এনভয় টু হাইকমিশনার অ্যান্তেনিও গুতেরেস পদে পদোন্নতি পান এবং এই পদে প্রতিষ্ঠানটির তিনিই প্রথম। তার প্রসারিত ভূমিকায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কূটনৈতিক বিষয় হিসেবে বৃহৎ শরণার্থী শিবিরগুলোর ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। পদোন্নতি পাওয়ার পর বিশেষ দূত হিসেবে ইকুয়েডর যান, সেখানে কম্বোডিয়ার শরণার্থীদের সাথে দেখা করেন। সপ্তাহব্যাপী ভ্রমণে শরণার্থীদের অবস্থা নিরূপণের জন্য জর্দান, লেবানন, তুরস্ক, ইরাক এবং প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া ভ্রমণ করেন। এরপরও বিশ্বের ১২টি ক্ষেত্র তিনি পরিদর্শন করেন এবং শরণার্থীদের অবস্থার ব্যাপারে সুপারিশ করেন।

তার ঐতিহ্যের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য কম্বোডিয়ার জন্ম নেয়া এক পালকপুত্র গ্রহণ করেন এবং তার ছেলে দেশে একটি বাড়ি কেনেন। ৩৯ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত বাড়িটি সামলোট ন্যাশনাল পার্কের কাছে কারডামাম পর্বতসংলগ্ন বাটামবাং প্রদেশে অবস্থিত। এলাকাটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের অবৈধ শিকারি দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় তিনি পার্কের ৬০ হাজার হেক্টর জমি কিনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এই মহৎ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে কম্বোডিয়ার রাজা জোলিকে দেশটির নাগরিকত্ব উপহার দেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *