ডিপ্রেশনের মহৌষধ ‘মা’

ডিপ্রেশন মনের বা শরীরের এমন একটি সমস্যা যার ফলে একজন মানুষ ক্রমশ বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে। আপনি যদি নিজের মধ্যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখতে পান তাহলে নিজেকে এর থেকে বের করে আনতে চেষ্টা করতে হবে আপনাকেই। জেনে রাখুন, আপনার এই সমস্যার মহৌষধ আর কেউ নন, আপনার মা।

ডিপ্রেশনে ভোগা মানুষগুলোর পৃথিবী বর্ণহীন, স্বাভাবিক জীবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, স্পৃহা, কর্মচাঞ্চল্য এই অনুভূতিগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই সেখানে। আছে কেবল হৃদয়ের গহীনে বিদ্ধ একরাশ শূন্যতা। প্রতিটা মুহূর্তে প্রতিটা পদক্ষেপে নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে আজ সে ভীষণ ক্লান্ত, এবার সময় হয়েছে জীবন থেকে ছুটি নেওয়ার। এভাবেই এই নির্দয় জগৎ থেকে সবার অগোচরে একদিন টুপ করে ঝরে যায় মানুষটা।

সমাজ বিজ্ঞানীরা এসব সমস্যার এক অসাধারণ নিরাময় আবিষ্কার করেছেন। আর সেটির সত্যতা যাচাই করতে আপনাকে মিনিট পাঁচেকের বেশি ব্যয় করতে হবে না। স্রেফ আপনার মায়ের সঙ্গে কথা বলুন। মা যদি ধারেকাছে না থাকেন, তবে তাকে ফোনে একটি কল দিন। এতে করে আপনার স্ট্রেস কমা ও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

সম্পর্ক-বিজ্ঞানে মায়ের ভালোবাসার মতো ক্ষমতাশালী বস্তু খুব কমই আছে। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন যে, একজন সন্তান যদি তার মাকে জড়িয়ে ধরে, তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই তার মস্তিষ্কে ভালো লাগার অনুভূতিসম্পন্ন হরমোন অক্সিটোসিনের স্রোত বয়ে যায়। যা মা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধনকে আরো জোরালো করে, মানসিক চাপ কমায় এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের খুঁটিকে আরো মজবুত করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, মায়ের ভালোবাসার শক্তি কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন মায়ের পক্ষে হাজার মাইল দূরে থেকেও সন্তানের মন ভালো করে দেয়া সম্ভব, যেটি রীতিমতো একটি গবেষণা থেকেই প্রমাণিত। ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের চাইল্ড ইমোশন ল্যাব থেকে করা গবেষণাটির ফল বলছে, মায়ের আলিঙ্গন সন্তানের মানসিক স্ট্রেস কমাতে যে প্রভাব ফেলে, ফোনের মাধ্যমে শোনা যাওয়া মায়ের কণ্ঠস্বরেও ঠিক সেরকমই প্রভাব বিদ্যমান।

তাহলে আর দেরি কেন? মন খারাপ লাগলে, বিষন্নতা পেয়ে বসলে, ডিপ্রেশন মনকে গ্রাস করছে বুঝতে পারলেই মায়ের কাছে চলে যান, অথবা ফোন করে কথা বলুন তাঁর সাথে।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *