ফিস্টুলা রোগ কী

ফিস্টুলা অতি পরিচিত একটি রোগ। ফিস্টুলা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সাধারণত নালিটি পায়ুপথের কতটা গভীরে প্রবেশ তার ওপর নির্ভর করে জটিলতা।

ফিস্টুলার ধরন বুঝে চিকিৎসায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। অনেকের ধারণা, আমাদের দেশে ফেস্টুলা হওয়া শঙ্কা বেশি।অনেকে রোগীরা অপারেশনের কথা শুনলে ভয় পান। তবে এটি ভয়ের কোনো কারণ নেই। এই অপারেশন একাধিকবার হতে পারে।

আসুন জেনে নেই ফেস্টুলা রোগের কারণ ও প্রতিরোধে কী করা যেতে পারে।

ফিস্টুলা কী?
মলদ্বারের বিশেষ ধরনের সংক্রমণের ফলে এই রোগ হয়। মলদ্বারের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি রয়েছে । গ্রন্থিগুলো সংক্রমণের কারণে ফোঁড়া হয়, যাকে আমরা ফিস্টুলা বলি।অনেক সময় দেখা যায় এসব ফোঁড়া ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চারপাশে ছড়িয়ে পরে। ফলে পায়ুপথের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ ও রক্ত। এ সময় প্রচুর ব্যথা অনুভত হয়। এই ব্যথার তীব্রতা অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়ায়।একে আমরা ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলি।

ফিস্টুলা রোগের কারণ

বিভিন্ন কারণে ফিস্টুলা হতে পারে। তাই কারণগুলো জেনে নিয়ে সেসব বিষয়ে অবশ্যই সর্তক থাকতে হবে।

মলদ্বারের ক্যান্সার, বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে, যক্ষ্মাসহ বিভিন্ন কারণে ও ফিস্টুলা হতে পারে।

ফিস্টুলা লক্ষণ

মলদ্বারে ফোঁড়া হচ্ছে ফিস্টুলা। মলদ্বারের বেতরে ফোড়া হওয়ার জন্য ফুলে যায় ও ব্যথা হয় ।এছাড়া ফোড়া ফেলে গেলে তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ও পুঁজ বের হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মলের সঙ্গে পুঁজ ও আম পড়তে থাকে। কিন্তু অনেক রোগী বুঝতে না পেরে দেরিতে ডাক্তারের কাছে আসেন। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

সাধারণত তিনটি লক্ষণে ফিস্টুলা হয়েছে কি না বোঝা যায়।

১. ফুলে যাওয়া।

২. ব্যথা হওয়া ।

৩. নিঃসরণ বা পুঁজ ও আঠাল পদার্থ বের হওয়া।
পরীক্ষা জন্য

ফিস্টুলা ধরণ ও আসলে হয়েছে কি না তা পরীক্ষার জন্য প্রক্টস্কপি, সিগময়ডসকপি, কোলনস্কপি, বেরিয়াম এক্স-রে, এনাল এন্ডোসনোগ্রাফি, ফিস্টুলো গ্রাম ইত্যাতি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। তবে মলদ্বারের ভেতরে আঙুল দিয়ে পরীক্ষা করাটাই বেশি শ্রেয়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *