Header ad

ইসলামে মায়ের মর্যাদা ও অধিকার

একজন নারী যখন মা হন, তখন তাকে বিশেষ সম্মান ও অধিক মর্যাদা দেয়ার নির্দেশ করে ইসলাম। তার সঙ্গে সর্বোত্তম ব্যবহার করা, তাকে কোন প্রকার কষ্ট না দেওয়া, তার সেবায় সর্বদা সচেষ্ট হওয়া এবং তার কল্যাণের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করার আদেশ দেয় ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا حَتَّى إِذَا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَبَلَغَ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَأَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ﴿15﴾

“আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তা মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার উপর ও আমার মাতা-পিতার উপর যে নিয়ামত দান করেছ, তোমার সে নিআমতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ কর। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তভূর্ক্ত।” -সূরা আল-আহকাফ: ১৫

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا ﴿23﴾ وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا ﴿24﴾

“আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে উফ, বল না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে ডানা নত করে দাও এবং বল, হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।” -সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ২৩-২৪

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করা হল,
يا رسول الله من أبرُّ؟ قال: أُمّك، قال: ثم من؟ قال: أمَّك، قال: ثم من؟ قال أباك
“হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে বেশি ভালো ব্যবহারের উপযুক্ত লোকটি কে? তিনি বললেন, তোমার মা, লোকটি বলল, তারপর কে? বলল, তোমার মা, লোকটি আবারো বলল, তারপর কে? বলল, তোমার পিতা।” – বুখারি, আদাবুল মুফরিদ; ৫৯৭১, মুসলিম; ৮৫

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট হিজরত করার জন্য অঙ্গিকার করতে আসে। আর সে তার মাতা পিতাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় রেখে এসেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলল,
ارجع إليهما وأضحكهما كما أبكيتَهما
“তুমি তাদের উভয়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের যেভাবে তুমি কাঁদিয়েছিলে, সেভাবে তাদের খুশি করিয়ে দাও।” –আবুদাউদ; ২৫২৮, ইবনে মাজাহ্‌; ২৭৮২

এতে প্রমাণিত হয় যে, মাতা পিতার অসন্তুষ্টির প্রতি লক্ষ রেখে রাসূল রাসূলুল্লাহ (সা.) লোকটিকে হিজরতও করতে দেননি।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল কোনটি? উত্তরে তিনি বললেন,
الصلاة على وقتها، قلت: ثم أيّ؟ قال: برُّ الوالدين، قلت: ثم أيّ؟ قال: الجهاد في سبيل الله
“সময় মত নামায আদায় করা, আমি বললাম তারপর কোনটি? তিনি বললেন, মাতা-পিতার সাথে ভালো ব্যবহার করা, আমি বললাম তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা” –বুখারি; ৫৯৭০, মুসলিম; ৮৫

মাতা-পিতাকে কোন প্রকার কষ্ট দেয়ার বিষয়ে ইসলাম সবোর্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তাদের কোন প্রকার কষ্ট দেওয়া হতে ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। তাদের কোন প্রকার কষ্ট দেয়াকে মাতা-পিতার নাফরমানি বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং যারা তাদের মাতা-পিতাকে কষ্ট দেয়, তাদের কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসা করা হবে, বরং তাদের কষ্ট দেয়াকে কবিরা গুনাহ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।

হযরত আবু বকরা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনবার বললেন,

ألا أُنبِّئكم بأكبر الكبائر؟ ثلاثاً. قالوا: بلى يا رسول الله، قال: الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، . وجلس وكان متّكئاً فقال: ألا وقولُ الزور ما زال يكرِّرها حتى قلنا: ليته سكت

“আমি কি তোমাদের জানিয়ে দেবো সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ কী? (এ কথাটি রাসূল (সা.) তিনবার বলেছেন) তারা বললেন, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি বললেন, সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ, আল্লাহর সাথে শরীক করা, মাতা- পিতার নাফরমানি করা, (রাসূল সা. হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন, তারপর তিনি উঠে বসে বললেন, সাবধান! মিথ্যা কথা বলা) রাসূলুল্লাহ (সা.) কথাটি বার বার বলছিল, যার ফলে আমরা চাচ্ছিলাম যদি রাসূল (সা.) চুপ হতেন!” –বুখারি; ৫৯৭৬, মুসলিম; ৮৭

ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
لعن اللهُ من لعن والديه
“আল্লাহ তাআলার আযাব তার উপর যে তার মাতা পিতাকে অভিশাপ দেয় বা কষ্ট দেয়।” –মুসলিম; ১৯৭৮

রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে পিতামাতার সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ এবং তাদের অধিকার পরিপূর্ণ রূপে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *