Header ad

মূল্যবোধের প্রথম সোপান বিশ্বাস

মানবতার ভিত্তিভূমি মূল্যবোধ। আর মূল্যবোধের প্রথম সোপান বিশ্বাস। বিশ্বাস শব্দটির গুরুত্ব এখন নানাভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠছে অন্তত সমাজ বাস্তবতায়। আধুনিক সমাজে বিশ্বাসকে কিছুটা তাচ্ছিল্য করা হয়। আসলে বিশ্বাস দুই প্রকার। অন্ধবিশ্বাস ও আলোকিত বিশ্বাস। আধুনিক সমাজে বিশ্বাসের এই দ্বিধাবিভক্তিটা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। এ জন্যই বিশ্বাস নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ধর্মের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক আর মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ্বাস ছাড়া ধার্মিক হওয়া যায় না, বিশ্বাস ছাড়া মানুষও হওয়া যায় না। যে মানুষকে বিশ্বাস করা যায় না এবং যে মানুষ নিজে বিশ্বাসী নয়, সে কোনো মানুষই নয়। তার জ্ঞান, অর্থবিত্ত ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকলেও থাকতে পারে, তবুও সে মানুষ নয়। তবে এমন হতে পারে যে কোনো মানুষের বিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতার জায়গাটা খুব সহজে বুঝে আসছে না, হতে পারে সে প্রকৃত অর্থে বিশ্বাসী এবং আস্থাযোগ্য। এ জন্যই হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘কোনো মানুষকে বেইমান বা অবিশ্বাসী বলে গালি দিয়ো না।’

ধর্মের সঙ্গে যেসব বিশ্বাস জড়িত সেগুলোকে আজকাল কেউ কেউ ঢালাওভাবে অন্ধবিশ্বাস হিসেবে আখ্যায়িত করতে চায়। এটা মারাত্মক ভুল। ধর্মের সঙ্গে যেসব বিশ্বাস জড়িত, মূলত সেগুলো অন্ধবিশ্বাস নয়। তবে ধর্মবিশ্বাসের ভেতরে অন্ধবিশ্বাসও তৈরি হয়েছে- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেটা হয়েছে বলেই ধর্ম আজ ভীষণভাবে অবমূল্যায়িত হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদতার প্রতীক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। না-বোঝা ধর্মচর্চা, শুধু আনুষ্ঠানিকতানির্ভর ধর্মচর্চা এবং কায়েমি স্বার্থ টিকিয়ে রাখার অপকৌশল হিসেবে ধর্মচর্চা। এসবের মধ্য দিয়ে ধর্মের ভেতরে অন্ধবিশ্বাস স্থান করে নিয়েছে। অপর দিকে মানুষের আদিমকালের কিছু অন্ধবিশ্বাসকে ধর্ম হিসেবে অভিহিত করার ভাষাগত সমস্যাও সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। মানুষ যা ধারণ করে, তাকেই আমরা ধর্ম বলছি। সেই ধারণ করার মধ্যে পরিশীলন, সংস্কার ও চৈতন্যের বিবর্তন যে ঘটেছে, সেগুলোকে অনেক সময় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

আলোকিত বিশ্বাস আসলে কী তা বুঝতে হবে এবং উপলব্ধিতে আনতে হবে। আলোকিত বিশ্বাসের প্রথম স্তর হচ্ছে বিশ্বাস। মানুষ প্রকৃত অর্থেই মানুষ হয়ে উঠেছে সেদিন, যেদিন সে বিশ্বাস করেছে যে আমি মানুষ। স্রষ্টাকে বুঝতে হলে তাঁর সৃষ্টিকে বুঝতে হবে। সবার আগে বুঝতে হবে নিজেকে। কোরআন মজিদে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘যে নিজেকে চিনতে পেরেছে, সে তার প্রতিপালককেও চিনতে পেরেছে’ (মান আরাফা নাফশাহু ফাকাদ মারাফা রাব্বাহু)। নিজেকে বোঝা মানে বাস্তবকে বোঝা; বিবেক, বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে জীবন ও জগৎকে বোঝা এবং সত্য ও ন্যায়কে উপলব্ধি করা। যুক্তি, বুদ্ধি, বিবেক ও উপলব্ধি দিয়ে মানুষ যে বিশ্বাসকে ধারণ করে, সেটা হচ্ছে আলোকিত বিশ্বাস। আল্লাহতায়ালা মানুষকে আলোকিত বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে ওঠার জন্য নবী-রাসুলদের পাঠিয়ে এবং মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি ও অন্তরদৃষ্টি দান করে সহযোগিতা করেছেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *