Header ad

এবার মুখ খুললেন মিলার প্রাক্তন স্বামী সানজারী

ব্যক্তিগত জীবন সংকটে কাটছে পপ গায়িকা মিলা ইসলামের। গত ২৪ এপ্রিল ঢাকার বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদকর্মীদের কাছে সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন মিলা।

এর আগে সংসারের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনেক পোস্ট দেন মিলা। তবে সেসব পোস্টের বিপরীতে কোনো মন্তব্য করেননি মিলার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারী।

অবশেষে মুখ খুলেছেন পারভেজ সানজারী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৯ মিনিটে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মিলার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের কারণসহ অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

পারভেজ সানজারী বলেন, ‘নীরব থাকব বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। দেড় বছর ধরে নীরবই ছিলাম। এই নীরবতা একজন প্রাক্তন স্ত্রী ও তার পরিবারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা প্রদর্শন। কিন্তু এই নীরবতা যখন দুর্বলতা হিসেবে গণ্য হতে থাকে তখন চুপ থাকাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আমি কখনই চাইনি পারিবারিক বিষয়গুলো এভাবে প্রকাশ হোক। আমার পরিবার, আমার শিক্ষা, পেশা, জ্ঞান ও মূল্যবোধ কখনই আমাকে সেটা শেখায়নি। কিন্তু মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউব-এর মতো সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার এবং গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে আমার ও আমার পরিবারকে নিয়ে যখন বানোয়াট বক্তব্য তুলে ধরা হয় তখন মুখ বুজে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অপ্রিয় সত্যগুলো অনিচ্ছা সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশের জন্য আমি শুরুতেই ক্ষমা প্রার্থী।

আমাদের বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ১২ মে। সঙ্গীত তারকা মিলার সাথে আমার পরিচয় তারও আগে। কিন্তু বিয়ের পরই তিনি পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তার নিজস্ব অস্বাভাবিক ধারাণাগুলো আমার ও আমার পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিতে থাকেন। একটি যৌথ পরিবারে কখনই ঘরের বউ-এর তার কাজের বুয়া-দাড়োয়ানকে দিয়ে সিগারেট আনানো, অশালীন কাপড়ে মুরব্বি-মেহমানদের সামনে যাওয়া, তুচ্ছ কথায় বাড়িতে ভাঙচুর করা ও প্রতিবেশীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা মেনে নেওয়া যায় না। তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল আমার চিরায়ত মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে সীমা অতিক্রম করে ফেলে। আমার তাকে বুঝানোর সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আমি ধারণা করেছিলাম সে নিজেকে শুধরে নেবে। কিন্তু সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার আক্রমণের নিশানায় পরিণত হন। বাসাবাড়িতে অশান্তি দেখা দেয়। সব কিছু মিলিয়ে পরিবেশ যখন সহ্যের বাইরে চলে যায় তখন উভয় পরিবারের কাছে আমি বিচ্ছেদের কথা জানাই। কিন্তু বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের পরই পরিস্থিতি আর সংকটময় হয়ে পড়ে। তার দায়েরকৃত সম্পূর্ণ সাজানো ও বানোয়াট নারী নির্যাতন ও দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবির মামলায় আমাকে আসামি হতে হয়। তিনি আমাকে আমার কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার করান। যিনি (মিলা) আমাকে কারাগারে পাঠালেন, তিনিই আবার সাক্ষাতে গিয়ে শর্ত দিলেন যে জন্মদাতা পিতা-মাতাকে ত্যাগ করলেই জেল থেকে আমাকে মুক্তি দেবেন। আমার পক্ষে এমন প্রস্তাব মানা সম্ভব ছিল না।’

মিলার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না বলে জানান সানজারী। তিনি বলেন, ‘আসলে আমার পক্ষে মিলার সাথে দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখার আর কোনো উপায় ছিল না। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২২ মে ২০১৮ ইং তারিখে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। গত ১ বছর ধরে আইনগত ভাবে তার সাথে আমার কোনোরূপ সম্পর্ক নেই। তিনি আমার স্ত্রী নন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *