Header ad

আজ হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর আজ সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদপুরুষ ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয় একজন লেখক। তিনি একাধারে ছিলেন সফল ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার, নাট্যপরিচালক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেই মাত্র ৬৩ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে এসেছিলেন ধূমকেতুর মতো। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হুমায়ূন সৃষ্টির যে শাখাতে হাত দিয়েছেন, তাতেই সফল হয়েছেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র- সব মাধ্যমেই নজির সৃষ্টি করেছেন।
১৯৭২ সালে ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে হুমায়ূন আহমেদের। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘জোৎস্না ও জননীর গল্প’, ‘কোথাও কেউ নেই’সহ কালজয়ী সব উপন্যাস লিখেছেন। লেখালেখি শুরুর মাত্র ১০ বছরের মাথায় বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
হিমু, মিছির আলীর মতো চরিত্র দিয়ে লাখো-কোটি পাঠক-ভক্ত তৈরি করেছেন এই কথার জাদুকর। ৩০০-র বেশি বই লিখেছেন তিনি।
হুমায়ূন আহমেদ বাংলা নাটকে আমূল পরিবর্তন আনেন। নির্মাণ করেন, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘আজ রবিবার’সহ, অনেক ধারাবাহিক ও একক নাটক। তার সব নাটকই ব্যাপক দর্শকপ্রিয় হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক। লেখালেখি শুরুর পর শিক্ষকতা ছেড়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৯২ সালে নির্মাণ করেন, ‘শঙ্খনীল কারাগার’। এরপর ‘আগুনের পরশমনি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘শ্যামল ছায়া’সহ ১৫টি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি লিখেছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় গান।
সব্যসাচী লেখক হুমায়ূন আহমেদ যখন সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার ঠিক সেই সময় ২০১১ সালে তার কোলন ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১‌২ সালের ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে মারা যান তিনি। নিজের সৃষ্ট নন্দনকানন গাজীপুরের নূহাশপল্লীতে শেষ ঠিকানা হয় বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদ পুরুষের।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *