Header ad

বেশি পাকা কলা খেলে কী হয় জানেন

কলা খেতে পছন্দ করেন প্রায় অনেকেই। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আঁশ, কপার, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি সিক্স ও বায়োটিন আছে। অনেকে মনে করেন পাকা কলায় পুষ্টি থাকলেও, বেশি পাকা কলায় থাকে না। তাই বেশি পাকা কলা না খেয়ে, ফেলে দেয়। যদি কলা বেশি পাকা হয় তাহলে দেখতে সুন্দর না হওয়ায় খান না অনেকে। শেষে তার জায়গা হয় ময়লার ঝুড়িতে।

আমেরিকার করনেল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব হিউম্যান ইকোলজির গবেষকদের মতে, অতি পাকা কলা প্রচুর পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। আসলে কলা যখন বেশি পেকে যায় তার পুষ্টি গুণ পরিবর্তন হয়ে যায়। তার মানে এই নয় যে এর পুষ্টিগুণ হারিয়ে ফেলে। বরং এর পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।

চলুন তবে বেশি পাকা কলা খাওয়ার উপকারিতার কথাগুলো জেনে আসি।

ক্যানসার প্রতিরোধ
ক্যানসার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে পাকা কলা। বেশি পাকা কলার উপর যে কালো দাগ পড়ে, তা টিউমার নেকরোসিস ফ্যাক্টর নামের উপাদান তৈরি করে, যা শরীরের ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষ ধবংস করে।

কোষের ক্ষতি রোধ
অতি পাকা কলায় প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষ নষ্ট হওয়া রোধ করে। এতে রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে। তাছাড়া অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে কলা।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর
বেশি পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। কলা খেলে হজম ভালো হয়।

শক্তি বাড়ায়
অতি পাকা কলায় প্রচুর কার্বোহাইড্রেট ও সুগার থাকে। এগুলো শরীরে শক্তি যোগায়। দেড় ঘণ্টা ব্যায়াম করার পর দুটি অতি পাকা কলা খেলে শক্তি পাওয়া যায়।

বুক জ্বালা দূর
বেশি পাকা কলা অ্যান্টাসিডের কাজ করে। বাদামী বা কালোদাগ সহ বেশি পাকা কলা খেলে বুক জ্বালা কমে।

হতাশা দূর
অতি পাকা কলায় বেশি পরিমাণে ট্রিপটোফান থাকে, যা খাওয়ার পর সেরোটোনিনে পরিণত হয়। এই উপাদান নার্ভাস সিস্টেমকে ঠাণ্ডা রাখে, হতাশা দূর করে মনে সতেজ ভাব নিয়ে আসে।

রক্তচাপ কমায়
বেশি পাকা কলায় সোডিয়াম কম ও পটাশিয়াম বেশি থাকে। তাই নিয়মিত অতি পাকা কলা খেলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। কলা রক্তনালীতে থাকা ব্লক দূর করে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করে।

রক্ত স্বল্পতা দূর
অতি পাকা কলায় আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই এটি অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ
কলায় পটাশিয়াম বেশি, সোডিয়াম কম থাকে বলে এটি খেলে কোলেস্টেরল মাত্রা ঠিক থাকে। কলায় থাকা আঁশ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আর কলায় থাকা কপার ও আয়রন রক্ত ও হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়।
নিয়মিত কলা খেলে শরীরের ক্ষমতা মারাত্মক বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে হার্টের কর্মক্ষমতাও বাড়তে শুরু করে। আসলে কলা খাওয়া মানেই পটাশিয়ামের এন্ট্রি ঘটা শরীরে। আর দেহের অন্দরে পটাশিয়াম বাড়তে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এক কথায় বলতে পারেন এই খনিজটির ছোঁয়া পেয়ে হার্ট পুনর্জীবন ফিরে পায়।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *