Header ad

দূরে থাকুক মনের অসুখ

শরীরের অসুখ সাড়ানো যায়, কিন্তু মনের অসুখ! মন যদি ভালো না থাকে তবে কোনোকিছুতেই মন বসে না। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, ঘুরাঘুরি, আড্ডা সব কিছুকেই ফ্যাকাশে মনে হয়। অপরূপ এই পৃথিবীকেও মনে হয় বর্ণগন্ধহীন। যেকোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে মন ভালো রাখা খুব দরকারি।

কিন্তু মন তো আর পোষ মানা পাখি নয় যে তাকে নিজের ইচ্ছে মতো বুলি শেখানো যাবে। মন খারাপের সময়গুলোতে তাই মানুষ তার কাছের মানুষকেই সবচেয়ে বেশি কাছে ও পাশে পেতে চায়। বিশেষ করে, দাম্পত্য জীবনে যদি সঙ্গীর মন খারাপ থাকে তাহলে তাকে কিভাবে চাঙ্গা করে তুলতে হবে এ নিয়েই এ প্রতিবেদনে মনোবিদদের কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো:

* বিষণ্নতা মানুষকে নিজের ভেতর গুটিয়ে ফেলে। অন্যের থেকে ক্রমে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই আপনার সঙ্গীর মন খারাপ হলে তাকে প্রচুর সময় দিন। মজার মজার ঘটনার গল্প বলে তার মনকে হালকা হতে সহায়তা করুন।

* আপনি যখন বুঝতেই পারছেন আপনার পাশের মানুষটির মন ভালো নেই, সে একাকিত্ব ফিল করছে তখন আর বারবার ‘কী হয়েছে কী হয়েছে’ বলে বলে তাকে বিরক্ত না করাই ভালো। বরং তার কাজে সহায়তা করুন। তার পাশে থাকুন। দেখবেন ধীরে ধীরে তার মন হালকা হয়ে গেছে।

* মনের সুখ না থাকলে শরীরও সায় দেয় না। বিষণ্নতা অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক সম্পর্ককেও বাধাগ্রস্ত করে। একে অন্যের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে এই সময়টাকে সঙ্গীর বিষণ্নতা কাটাতে একসঙ্গে গান শুনুন, সিনেমা দেখুন, মজার কিছু রান্না করুন।

* সঙ্গীর কথা সবসময় গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। তাকে ভুলেও অবহেলা করবেন না। তাতে করে দূরত্ব তৈরি হয়। একে অন্যের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলেন। কোনও বিষয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না। নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত দেয়ার চেষ্টা করুন। নিজের মত সঙ্গীর ওপর চাপিয়ে দেবেন না।

* বিষণ্নতার আরেকটি উপসর্গ খাবারে অনীহা। এ সমস্যা কাটাতে নতুন কিছু রান্না করুন। অপরিচিত খাবার খান। প্রয়োজনে সঙ্গীকে নিয়ে বাজারে গিয়ে পছন্দের আইটেমগুলো কিনে আনুন।

* সঙ্গীর ভালো কথাটা যেমন শুনতে হবে তেমনই মন্দ কথা শুনেও তা হজম করতে হবে। পুরো কথা না শুনে মন্তব্য করবেন না। তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। তার অবস্থানে নিজেকে দাঁড় করিয়ে চিন্তা করুন। তাহলেই সমস্যা অনেকখানি কমে যাবে।

* সঙ্গীকে সঙ্গ দেয়ার চেয়ে উত্তম উপায় আর কিছু নেই। যতটা সম্ভব তাকে সময় দিন। একসঙ্গে হাঁটতে বের হন। একসঙ্গে ব্যায়াম করুন। মনে রাখতে হবে, সম্পর্ক সুন্দর রাখার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা, সম্মান সবসময় প্রয়োজন।

* খুব বেশি সমস্যা বোধ করলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *