Header ad

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গেছ করোনাভাইরাস আতঙ্ক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষদের যেমন মৃতের খবর শোনা যাচ্ছে, তেমনি জানা যাচ্ছে সুস্থ হবার কথা। তবে কোভিড-১৯-এর সব থেকে খারাপ দিক হলো এই ভাইরাস শ্বাসনালী ও ফুসফুসকে সরাসরি আক্রমণ করে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা কিছু মানুষের ফুসফুস অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

হংকং হসপিটাল অথরিটির (এইচকেএইচকে) ইনফেকশাস ডিজিজ সেন্টারের একদল চিকিৎসক জানান, এই ভাইরাসের থাবা থেকে মুক্তি পেলেও ফুসফুসের সমস্যা আক্রান্তদের আজীবন সঙ্গী হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এ কথা জানিয়েছেন। দেখা গেছে সুস্থ হওয়া কারও কারও ফুসফুসের কর্মক্ষমতা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গেছে। তাই অল্প পরিশ্রমেই তাদের শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অবশ্য এখনও এ বিষয়ে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। কারণ, আক্রান্তদের একটা বড় অংশকেই এখনও পর্যন্ত এই সমীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

চিনের একটি মেডিকেল জার্নালের ডিজিটাল সংস্করণে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, ধূমপায়ীরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে তাদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি একজন অধূমপায়ীর থেকে ১৪ শতাংশ বেশি। আসলে মানুষের শ্বাসনালী ও ফুসফুসে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম চুলের মতো অনেক সিলিয়া থাকে। এদের কাজ— শ্বাসনালী ও ফুসফুসের ধূলিকণা, মিউকাস বা শ্লেষ্মাসহ সব বাধাকে সরিয়ে দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করা। কিন্তু ধূমপায়ীদের এই সিলিয়াগুলো কার্যত অকেজো হয়ে যায়। আর সে কারণেই ফুসফুসের যুদ্ধ করার ক্ষমতা কমে যায়। অনেকে সিগারেটের বদলে ই-সিগারেট পান করেন। ভেপিংয়ের ফলেও ফুসফুস ও শ্বাসনালী একই রকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

করোনাভাইরাসকে এড়াতে যা মেনে চলা উচিত।

বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া।
ধূমপান, মদ্যপানের মতো নেশা ছেড়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা।
খাবার আগে ভালো করে হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। অকারণে মুখে-নাকে-চোখে হাত না দেওয়া।
হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা বা সর্দি-জ্বর হলে অবশ্যই আলাদা থাকা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।
ভিটামিন-এ জীবাণুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তবে ট্যাবলেট ক্যাপসুল নয়, খাবারে থাকা ভিটামিনই ভালো। ভিটামিন-এ পাওয়া যায় গাজর, কমলালেবু, টমেটো, ডিমের কুসুম, পালংশাক, রাঙা আলু, ব্রোকোলি-সহ নানা টাটকা ফল ও সবজিতে।
ভিটামিন-ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়ম করে একটু রোদে ঘোরাঘুরি করলে চলবে। সঙ্গে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, মাশরুম, ডিম খেতে হবে।
আমলকিসহ সব ধরনের লেবুতে থাকা ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
অসুখ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। অযথা ভয় পাবেন না।

About The Author

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *